ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন সমঝোতা চুক্তি নিয়ে ফের আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একদিন আগেই ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি। এবার আরও বড় দাবি করে ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান ভবিষ্যতে কখনও পরমাণু অস্ত্র তৈরি বা অর্জন করবে না বলে সম্মত হয়েছে।
নিজের সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প বলেন, ইরানকে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন তহবিল দেওয়া হবে বলে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভুয়ো। তাঁর অভিযোগ, এই ধরনের খবর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ছড়ানো হচ্ছে। ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে এমন কোনও অর্থ সহায়তা দিচ্ছে না।
তবে প্রস্তাবিত নতুন চুক্তিকে ঘিরে মার্কিন রাজনীতিতে বিতর্ক থামেনি। ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, এই চুক্তি প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে স্বাক্ষরিত পারমাণবিক চুক্তির পুনরাবৃত্তি হবে না। অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েই নতুন কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে বলে তাঁদের বক্তব্য।
সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হতে পারে। যদিও এখনও পর্যন্ত চুক্তির পূর্ণাঙ্গ নথি প্রকাশ করা হয়নি। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহেই হোয়াইট হাউস চুক্তির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করবে।
একটি ভিডিও বার্তায় ভ্যান্স বলেন, প্রেসিডেন্টের অবস্থান স্পষ্ট—ইরান কখনও পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হতে পারবে না। তবে কীভাবে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ করা হবে, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা কী হবে এবং চুক্তির শর্ত মানা হচ্ছে কি না তা কে যাচাই করবে—এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
অন্যদিকে ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, আগামী ১৯ জুন সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর ৬০ দিনের একটি আলোচনা পর্ব শুরু হবে। সেই আলোচনার ভিত্তিতেই ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে চূড়ান্ত ও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির রূপরেখা নির্ধারণ করা হতে পারে।
ফলে সম্ভাব্য এই চুক্তি শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্কের ক্ষেত্রেই নয়, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক কূটনীতির ভবিষ্যতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।