পশ্চিমবঙ্গ দিবসের তাৎপর্য নিয়ে স্কুলে স্কুলে বিশেষ কর্মসূচি, সরকারি নির্দেশিকা জারি
পশ্চিমবঙ্গ দিবসের ঐতিহাসিক তাৎপর্য কি? আগামী ২০ জুন রাজ্যের প্রতিটি স্কুলে পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালনের পাশাপাশি পরবর্তী দুই সপ্তাহ জুড়ে পশ্চিমবঙ্গ দিবসের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা, প্রবন্ধ, বিতর্ক, প্রশ্নোত্তর প্রতিযোগিতা ইত্যাদি নানা কর্মসূচি পালন করা হবে রাজ্যের স্কুলে স্কুলে। ইতিমধ্যেই রাজ্যের মুখ্যসচিবের নির্দেশক্রমে স্কুল শিক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে জেলায় জেলায় বিদ্যালয় শিক্ষা পরিদর্শকদের নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে যে আগামী ২০ জুন রাজ্যের সমস্ত সরকারি সরকার পোষিত বা সরকার স্পনসর্ড স্কুলগুলিতে বাধ্যতামূলকভাবে পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদযাপন করতে হবে। ঐদিন প্রতিটি স্কুলে পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে বিশেষ প্রার্থনা সভার আয়োজন করতে বলা হয়েছে সরকারি নির্দেশিকায়। একইসঙ্গে
ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে নিয়ে
পশ্চিমবঙ্গ দিবস সংক্রান্ত বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করতে হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই সরকারি নির্দেশিকা সমস্ত স্কুলে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জেলা স্কুল পরিদর্শককে। এমনকি প্রতিটি স্কুলে কিভাবে এই নির্দেশ পালন করা হচ্ছে তার ছবি তুলেও পাঠাতে হবে বলে নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ভারত স্বাধীন হওয়ার প্রাক্কালে দেশভাগের সময় বাংলা প্রদেশকে কীভাবে বিভক্ত করা হবে, তা নিয়ে বঙ্গীয় আইনসভায় ১৯৪৭ সালের ২০ জুন ভোটাভুটি হয়। আইনসভার সদস্যরা তিনটি বিকল্পের ওপর ভোট দেন। গোটা বাংলা অবিভক্ত অবস্থায় পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হবে কিনা। এই প্রস্তাবের বিপক্ষে ১২০ জন এবং পক্ষে ৯০ জন ভোট দেন। পক্ষান্তরে মূলত শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের উদ্যোগে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলের বিধায়করা বাংলা ভাগের পক্ষে এবং ভারতে থাকার পক্ষে ভোট দেন। ৫৮ জন সদস্য এই প্রস্তাবের পক্ষে এবং ২১ জন বিপক্ষে ভোট দেন। এই সিদ্ধান্তের ফলেই অবিভক্ত বাংলার পশ্চিমাংশ নিয়ে পরবর্তীতে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য গঠিত হয় এবং তা স্বাধীন ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়। সেকারণেই
শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান এবং বাংলা ভাগের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের স্মারক হিসেবে আগামী ২০ জুন প্রতিবছর পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিবর্তনের বিজেপি সরকার। রাজভবন এবং ভারতীয় জনতা পার্টি আগে থেকেই এই দিনটিতে পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদযাপন করলেও পূর্বতন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার দেশভাগের ক্ষত এবং বঙ্গভঙ্গের সিদ্ধান্তের দিনটিকে পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসেবে পালনে রাজি ছিল না। বাঙালির নববর্ষ হিসেবে পয়লা বৈশাখে পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেয় পূর্বতন রাজ্য সরকার। অবশ্য রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদানকে স্বীকৃতি দিতে ২০ জুন পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয় শুভেন্দু অধিকারির নেতৃত্বাধীন পরিবর্তনের সরকার। ২০ জুন পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদযাপনের জন্য রাজ্যের মূল অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।