আন্তর্জাতিক জলসীমা পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করা বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে এবার কঠোর অবস্থান নিল রাজ্য সরকার। রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের উদ্যোগে সম্প্রতি ধরা পড়া ৯১ জন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে বাংলাদেশ উপকূলরক্ষী বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, এই পদক্ষেপের ফলে বর্তমানে জলপথে অনুপ্রবেশ করে ধরা পড়া কোনও বাংলাদেশি নাগরিক আর পশ্চিমবঙ্গের জেল বা সংশোধনাগারে বন্দি নেই।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, ফ্রেজারগঞ্জ ও ম্যুর আইল্যান্ড সংলগ্ন জলসীমা দিয়ে গত কয়েক মাসে একাধিকবার বাংলাদেশি নাগরিকরা ভারতীয় জলভাগে প্রবেশের চেষ্টা করেন। ধৃতদের মধ্যে ছিলেন পুরুষ, মহিলা, বয়স্ক ব্যক্তি এবং নাবালক-নাবালিকাও। অভিযানে চারটি বাংলাদেশি ট্রলারও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
এতদিন পর্যন্ত ধরা পড়া অনুপ্রবেশকারীদের দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন জেল, সংশোধনাগার ও হোমে রাখা হতো। সেখানে তাদের খাদ্য, চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরিষেবার খরচ বহন করত রাজ্য সরকার। তবে নতুন প্রশাসনিক নীতির ফলে সেই অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে বলে জানা গেছে।
এর আগে ১১৫ জন বাংলাদেশি নাগরিককে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সুপারিশ এবং বাংলাদেশ হাইকমিশনের মধ্যস্থতায় প্রত্যর্পণ করা হয়েছিল। সেই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশে আটক ভারতীয় মৎস্যজীবীদেরও দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। কিন্তু এবার কোনও বিনিময় ছাড়াই, রাজ্য সরকারের স্বতঃপ্রণোদিত সিদ্ধান্তে ৯১ জনকে সরাসরি ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের দাবি।
স্বরাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তাদের মতে, আন্তর্জাতিক জলসীমা অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশকারীদের দীর্ঘদিন রাজ্যের খরচে রাখার পরিবর্তে দ্রুত প্রত্যর্পণের নীতি কার্যকর করা হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন সরকারি ব্যয় কমবে, তেমনই অনুপ্রবেশ রোধে কড়া বার্তাও পৌঁছে যাবে সীমান্তের ওপারে।
প্রশাসনের দাবি, বর্তমানে জলপথে ধরা পড়া কোনও বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী পশ্চিমবঙ্গে আটক অবস্থায় নেই। ফলে সরকারি নথি অনুযায়ী জলসীমা পেরিয়ে আসা অনুপ্রবেশকারীর সংখ্যা রাজ্যে কার্যত ‘শূন্য’-তে নেমে এসেছে।