ফের অশান্ত মধ্যপ্রাচ্য! যুদ্ধবিরতির পর ইজরায়েলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, পাল্টা আঘাত তেল আবিবের
কয়েক মাস আগেই কার্যকর হয়েছিল যুদ্ধবিরতি। কিন্তু সেই শান্তি যে ভঙ্গুর ছিল, তা আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠল মধ্যপ্রাচ্যের নতুন সংঘাত ঘিরে। যুদ্ধবিরতির পর প্রথমবার সরাসরি ইজরায়েলের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে ইরানের বিরুদ্ধে। এর পাল্টা জবাবে ইরানের মধ্য ও পশ্চিমাঞ্চলে বিমান হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল।
রবিবার লেবাননের রাজধানী বেইরুটের দক্ষিণ উপকণ্ঠে ইজরায়েলি হামলার পরই প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল তেহরান। সেই সতর্কবার্তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়। দুই দেশের মধ্যে ফের সরাসরি সংঘর্ষ শুরু হওয়ায় গোটা মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর থেকেই পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা চরমে ওঠে। ওই হামলার পর অঞ্চলজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে এবং ইরান-সমর্থিত বিভিন্ন গোষ্ঠীও সক্রিয় হয়ে ওঠে। বিশেষ করে লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লা ইরানের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় সংঘাত আরও জটিল আকার ধারণ করে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পরবর্তীতে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে একাধিক দফায় আলোচনা হয়। সেই আলোচনার ফলস্বরূপ এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলি। তবে শুরু থেকেই লেবানন ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য বজায় ছিল।
ইরানের অভিযোগ, লেবাননে ইজরায়েলের সামরিক অভিযান বন্ধ না হলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। অন্যদিকে ইজরায়েল বরাবরই দাবি করে এসেছে, সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে হিজবুল্লার ঘাঁটির বিরুদ্ধে অভিযান চালানো প্রয়োজন। বর্তমানে দক্ষিণ লেবাননের বিস্তীর্ণ এলাকায় ইজরায়েলি সেনা মোতায়েন রয়েছে বলে জানা গেছে, যা নতুন করে সংঘাত বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি করেছে।
রবিবারের হামলার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। যুদ্ধবিরতির পর এই প্রথম ইরান সরাসরি ইজরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক মহলের একাংশের দাবি। যদিও ইরানি কর্তৃপক্ষ এখনও স্পষ্টভাবে জানায়নি, হামলার লক্ষ্যবস্তু কোথায় ছিল এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কত।
অন্যদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, ইজরায়েল তাদের ভূখণ্ডে আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। যদিও এই দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই এখনও সম্ভব হয়নি।
ইজরায়েলের পাল্টা বিমান হামলার পর তেহরানের প্রধান ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ঘিরে আকাশপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, তাদের ভূখণ্ডে হামলা অব্যাহত থাকলে উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকেও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে।
ফলে যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। কূটনৈতিক সমাধানের পথ ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা। মধ্যপ্রাচ্যে ফের পূর্ণমাত্রার সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কায় উদ্বেগ বাড়ছে বিশ্বজুড়ে।