করাচিতে পাকিস্তান রেঞ্জার্সের সদর দফতরে জঙ্গি হামলার ঘটনায় ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের তোলা অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে খারিজ করে দিল নয়াদিল্লি। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, কোনও প্রমাণ ছাড়াই ভারতের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা বাস্তবতা থেকে নজর ঘোরানোর চেষ্টা মাত্র। একই সঙ্গে ইসলামাবাদকে সন্ত্রাসবাদ দমনে নিজেদের ভূমিকা নিয়ে আত্মসমালোচনারও পরামর্শ দিয়েছে ভারত।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, করাচির সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমে ভারতের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি বলেন, "আমরা এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করছি। অন্যকে দোষারোপ না করে পাকিস্তানের উচিত নিজেদের দেশে সক্রিয় সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে বিশ্বাসযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা।"
করাচিতে কী ঘটেছিল?
গত সপ্তাহে করাচিতে পাকিস্তান রেঞ্জার্সের সদর দফতরে ভয়াবহ জঙ্গি হামলা চালানো হয়। হামলার দায় স্বীকার করেছে আফগানিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জামাত-উল-আহরার, যার সঙ্গে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলে বিভিন্ন নিরাপত্তা সূত্রের দাবি।
পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, মোট নয়জন হামলাকারী এই অভিযানে অংশ নেয়। দীর্ঘক্ষণ নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে গুলির লড়াই চলে। সংঘর্ষে পাকিস্তান রেঞ্জার্সের তিন সদস্য নিহত এবং চারজন আহত হন। নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা অভিযানে তিন জঙ্গি নিহত হয় এবং এক হামলাকারীকে জীবিত গ্রেফতার করা হয়।
পাকিস্তানের অভিযোগ
হামলার পর পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি দাবি করেন, এই হামলার নেপথ্যে একটি ‘ভারতীয় প্রক্সি’ কাজ করেছে। তবে তাঁর এই দাবির পক্ষে কোনও প্রমাণ বা গোয়েন্দা তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পাকিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ইসলামাবাদ বরাবরই অভিযোগ করে আসছে যে, আফগানিস্তানের তালিবান সরকার টিটিপি-সহ একাধিক জঙ্গি সংগঠনকে আশ্রয় দিচ্ছে। যদিও কাবুল বারবার সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
ভারতের কড়া প্রতিক্রিয়া
পাকিস্তানের অভিযোগের জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, "পাকিস্তানের উচিত রাষ্ট্রনীতির হাতিয়ার হিসেবে সন্ত্রাসবাদকে ব্যবহার করার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসা এবং নিজেদের দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।"
কূটনৈতিক মহলের মতে, করাচি হামলার জেরে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। তবে নয়াদিল্লি স্পষ্ট করে দিয়েছে, প্রমাণহীন অভিযোগের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মহলকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা সফল হবে না।