যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মধ্যেই নতুন এক বিতর্ক সামনে এসেছে। মার্কিন প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ আলোচনা এবং মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর নজরদারির চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে ওয়াশিংটনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ একাধিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট এবং সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক তৎপরতা সম্পর্কে আগাম তথ্য পেতে ইসরায়েলি পক্ষ যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি চালানোর চেষ্টা করেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
একই ধরনের তথ্য প্রকাশ করেছে নিউইয়র্ক টাইমসও। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার কথোপকথন ও যোগাযোগ পর্যবেক্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে বলে বিভিন্ন গোয়েন্দা মূল্যায়নে উল্লেখ রয়েছে। আলোচনায় থাকা কর্মকর্তাদের মধ্যে ছিলেন ট্রাম্পের প্রধান আলোচক স্টিভ উইটকফ এবং পেন্টাগনের শীর্ষ নীতিনির্ধারণী কর্মকর্তা এলব্রিজ কোলবি।
এই অভিযোগের মধ্যেই নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেন্টাগনের ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (ডিআইএ) যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য ইসরায়েলি গোয়েন্দা তৎপরতার ঝুঁকির মাত্রা ‘ক্রিটিক্যাল’ বা সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করেছে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, মানব গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক এবং প্রযুক্তিনির্ভর তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে ইসরায়েলের সক্ষমতাকে অত্যন্ত উন্নত বলে বিবেচনা করা হয়। সেই কারণেই সাম্প্রতিক মূল্যায়নে বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক পরিবর্তন এবং ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে কৌশলগত মতপার্থক্য এই উত্তেজনার অন্যতম কারণ হতে পারে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর থেকেই দুই দেশের নেতৃত্বের মধ্যে কিছু বিষয়ে দূরত্ব তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস ও এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, লেবাননের রাজধানী বৈরুতকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ওপর অসন্তুষ্ট হন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি দুই নেতার মধ্যে টেলিফোন আলাপেও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসনের আশঙ্কা ছিল যে, বৈরুতের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযান ইরানের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলকে ঘিরে পেন্টাগনের নতুন হুমকি মূল্যায়ন দুই দেশের সম্পর্কের বর্তমান অবস্থান নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। যদিও অভিযোগ ও মূল্যায়নের বিষয়ে এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটন বা তেল আবিবের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, ঘটনাটি শুধু গোয়েন্দা তৎপরতার প্রশ্ন নয়; বরং এটি মধ্যপ্রাচ্য নীতি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সামনে নিয়ে এসেছে।