মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের আবহ তৈরি হওয়ায় ফের অস্থির হয়ে উঠেছে বিশ্ব অর্থনীতি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক হামলার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও বাড়তে শুরু করেছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। বিশেষ করে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ০.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৩.২১ ডলারে পৌঁছেছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি শুরু হওয়ার আগের তুলনায় দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনাই এই মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ।
যুদ্ধবিরতির আশায় ধাক্কা
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, কয়েকদিন আগেও যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনায় আন্তর্জাতিক বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছিল। কিন্তু একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও হামলা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। গত বৃহস্পতিবার একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পর সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি সামরিক অভিযান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা আবারও মাথাচাড়া দিয়েছে।
এশিয়ার শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রভাব
তেলের দামের ঊর্ধ্বগতির পাশাপাশি এশিয়ার শেয়ারবাজারেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
জাপানের প্রধান সূচক নিক্কেই ২২৫ প্রায় ০.৭ শতাংশ কমেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচক নেমেছে ১.৯ শতাংশ। তবে হংকং এবং তাইপের শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ববাজারে বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা আরও কমতে পারে।
হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন উদ্বেগ
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) পরিবাহিত হয়। ফলে এই অঞ্চলে যেকোনও সামরিক উত্তেজনা সরাসরি বিশ্ব জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলে।
দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার অভিযোগে গত শুক্রবার ও শনিবার ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড। এর পাল্টা জবাবে ইরান বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে।
আলোচনায় ফেরার সম্ভাবনা
তবে সংঘাতের মাঝেই কিছুটা আশার আলোও দেখা যাচ্ছে। মার্কিন গণমাধ্যমগুলোর দাবি, দুই পক্ষই আপাতত হামলা বন্ধ রেখে পুনরায় আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে।
জানা গেছে, আগামী মঙ্গলবার কাতারের রাজধানী দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক হতে পারে। যদিও এই বিষয়ে এখনো ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করেনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আলোচনায় অগ্রগতি না হলে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট আরও গভীর হতে পারে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে বিশ্ব জ্বালানি বাজার, পরিবহন খরচ এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর।