রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কার নিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত সর্বশেষ ‘এলিমেন্টস পেপার’-এর কড়া সমালোচনা করেছে ভারত। নয়াদিল্লির অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট নথিটি পক্ষপাতদুষ্টভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলির প্রকৃত অবস্থানকে সঠিকভাবে প্রতিফলিত করা হয়নি।
ভারতের মতে, নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদ সম্প্রসারণের পক্ষে যে ব্যাপক আন্তর্জাতিক সমর্থন রয়েছে, তা ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুত্বহীন করে দেখানো হয়েছে। রাষ্ট্রসংঘের ৮০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে সামনে রেখে নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কার নিয়ে আলোচনা যখন নতুন মাত্রা পাচ্ছে, তখন এই প্রশ্নে সদস্য দেশগুলির মধ্যে মতভেদও ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে।
বর্তমানে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য— মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চিন, ফ্রান্স এবং যুক্তরাজ্য। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী ১৯৪৫ সালের আন্তর্জাতিক বাস্তবতার ভিত্তিতে গঠিত এই কাঠামো আজকের বিশ্বের প্রতিনিধিত্ব করে না বলেই দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ উঠছে।
নতুন স্থায়ী সদস্যপদ সৃষ্টির দাবিতে সক্রিয় রয়েছে G4 গোষ্ঠী, যার সদস্য ভারত, জার্মানি, জাপান এবং ব্রাজিল। একইসঙ্গে আফ্রিকান ইউনিয়নও অন্তত দুটি স্থায়ী আসনের দাবি জানিয়ে আসছে। তবে কয়েকটি দেশ শুধুমাত্র অস্থায়ী সদস্যপদ বৃদ্ধির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি হরিশ পর্বথানেনি বৈঠকে ভারতের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে আট দফা যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, রাষ্ট্রসংঘ সনদের ২৩ নম্বর অনুচ্ছেদে স্থায়ী ও অস্থায়ী সদস্যদের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য নির্ধারিত রয়েছে। তাই সব বিষয়ে সর্বসম্মতি না হওয়া পর্যন্ত কোনও বিষয়ে সিদ্ধান্ত না নেওয়ার নীতি অনুসরণ করে সংস্কার প্রক্রিয়াকে অনির্দিষ্টকালের জন্য আটকে রাখা উচিত নয়।
ভারতের বার্তা পরিষ্কার— বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতাকে প্রতিফলিত করতে হলে নিরাপত্তা পরিষদের কাঠামোগত সংস্কার অপরিহার্য। বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র এবং অন্যতম দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতি হিসেবে ভারত আর ‘অর্ধেক সমাধান’-এ সন্তুষ্ট নয়। নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যপদ অর্জনের দাবিতে নয়াদিল্লি এবার আরও জোরালো ও স্পষ্ট অবস্থান গ্রহণ করেছে।
আন্তর্জাতিক
নিরাপত্তা পরিষদ সম্প্রসারণে অর্ধেক সমাধান নয়, স্পষ্ট সংস্কার চাই: রাষ্ট্রসংঘে ভারতের কড়া বার্তা
রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কার নিয়ে প্রকাশিত ‘এলিমেন্টস পেপার’-এর সমালোচনা করল ভারত; স্থায়ী সদস্যপদ সম্প্রসারণের দাবিতে আরও জোরালো অবস্থান নয়াদিল্লির।