রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ড্রোন হামলায় মৃত্যু বাংলার যুবকের? কেন্দ্রের হস্তক্ষেপের দাবি পরিবারের
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে ফের সামনে এল এক বেদনাদায়ক ঘটনা। আলিপুরদুয়ারের এক যুবকের ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছে তাঁর পরিবার। মৃত যুবকের নাম ইন্দ্রজিৎ বিশ্বাস (২৬)। তাঁর বাড়ি আলিপুরদুয়ার জেলার ১ নম্বর ব্লকের শালকুমারের মুন্সিপাড়া এলাকায়।
তবে এখনও পর্যন্ত ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বা রাশিয়ার সরকারি সূত্রে তাঁর মৃত্যুর বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। পরিবার ভারত সরকারের কাছে বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে।
কাজের খোঁজে রাশিয়া, পরে সেনাবাহিনীতে যোগ
মৃতের বাবা প্রদীপ বিশ্বাস জানান, কয়েক বছর আগে কাজের উদ্দেশ্যে এজেন্টের মাধ্যমে রাশিয়ায় যান ইন্দ্রজিৎ। পরবর্তীতে ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় কিছুদিন আত্মগোপন করে থাকতে হয়েছিল তাঁকে। পরে রাশিয়ার নাগরিকত্বের পরিচয়পত্র (সিটিজেন কার্ড) পাওয়ার পর তিনি রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যোগ দেন বলে পরিবারের দাবি।
প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার পর তাঁকে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়েছিল। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দীর্ঘদিন পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকলেও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে মাঝে মাঝে কথা হত বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
বন্ধুর মাধ্যমে আসে মৃত্যুর খবর
পরিবারের দাবি, সম্প্রতি পাঞ্জাবের এক সহকর্মীর কাছ থেকে একটি বার্তা ও ছবি পান তাঁরা। সেখানে জানানো হয়, ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় ইন্দ্রজিৎ-সহ দুইজন নিহত হয়েছেন।
ছেলের মৃত্যুর খবর এখনও মেনে নিতে পারছেন না বাবা প্রদীপ বিশ্বাস। তাঁর কথায়,
"ভারত সরকারের কাছে আমাদের আবেদন, সরকারি স্তরে রাশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি নিশ্চিত করা হোক এবং ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হোক।"
প্রশাসনের দ্বারস্থ পরিবার
মঙ্গলবার আলিপুরদুয়ার জেলা প্রশাসনের সঙ্গে দেখা করেন মৃত যুবকের পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন জেলা বিজেপির নেতা শংকর সিংহ। অতিরিক্ত জেলা শাসকের (জেনারেল) কাছে বিষয়টি তুলে ধরে ভারতীয় দূতাবাসের মাধ্যমে দ্রুত তথ্য যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
আলিপুরদুয়ারের পুলিশ সুপার অমিত কুমার বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। সমস্ত তথ্য যাচাইয়ের পরই প্রশাসনের পক্ষ থেকে মন্তব্য করা হবে।
সরকারি নিশ্চিতকরণের অপেক্ষা
বর্তমানে পরিবারের দাবি এবং বন্ধুর পাঠানো বার্তার ভিত্তিতেই এই মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। এখনও পর্যন্ত ভারত সরকার, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রক বা ভারতীয় দূতাবাসের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশিত হয়নি। ফলে সরকারি নিশ্চিতকরণের দিকেই নজর রয়েছে পরিবারের।