তাইওয়ানের পূর্বে চীনের শক্তি প্রদর্শন, বৃহত্তম টহল জাহাজসহ বিশাল নৌবহর মোতায়েন
আন্তর্জাতিক

তাইওয়ানের পূর্বে চীনের শক্তি প্রদর্শন, বৃহত্তম টহল জাহাজসহ বিশাল নৌবহর মোতায়েন

জাপান ও ফিলিপাইনের সামুদ্রিক সীমানা আলোচনা ঘিরে তাইওয়ানের পূর্ব জলসীমায় বৃহত্তম টহল জাহাজ ‘হাইশুন ০৯’সহ বিশাল নৌবহর মোতায়েন করেছে চীন। আঞ্চলিক উত্তেজনা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ।

শেয়ার
X WhatsApp

তাইওয়ানের পূর্ব জলসীমায় নিজেদের উপস্থিতি আরও জোরালো করতে বৃহত্তম সামুদ্রিক টহল জাহাজ ‘হাইশুন ০৯’সহ একটি বিশাল নৌবহর মোতায়েন করেছে চীন। বিশ্লেষকদের মতে, জাপান ও ফিলিপাইনের মধ্যকার সামুদ্রিক সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত সাম্প্রতিক আলোচনার প্রতিক্রিয়াতেই বেইজিং এই পদক্ষেপ নিয়েছে।

চীনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ একাধিক সামুদ্রিক জাহাজ এবং কোস্টগার্ড ইউনিট যৌথভাবে এই টহল অভিযান পরিচালনা করবে। এর মাধ্যমে তাইওয়ানের পূর্ব দিকের গুরুত্বপূর্ণ জলসীমায় চীনের উপস্থিতি আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।

ভেসেল ট্র্যাকিং তথ্য বিশ্লেষণকারী প্ল্যাটফর্ম ‘মেরিন ইকুইপমেন্ট অ্যান্ড গভর্নমেন্ট ভেসেল ইনফরমেশন’-এর তথ্য অনুযায়ী, এই বহরের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য জাহাজ হলো ১০ হাজার টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ‘হাইশুন ০৯’। এটি বর্তমানে চীনের সবচেয়ে বড় সামুদ্রিক টহল জাহাজ হিসেবে পরিচিত।

এ ছাড়া বহরে রয়েছে ৭ হাজার ৫০০ টনের হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ জাহাজ ‘হাইশুন ০৮’, ৫ হাজার টনের সমুদ্র উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হাইশুন ০৬’ এবং উদ্ধার অভিযান পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত ‘দংহাইজিউ ১১৩’।

পর্যবেক্ষকদের মতে, এই অভিযানের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—চীনের কোস্টগার্ড এবং সামুদ্রিক প্রশাসন প্রথমবারের মতো তাইওয়ানের পূর্বাঞ্চলীয় একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইইজেড) ঘিরে সমন্বিত যৌথ টহলে অংশ নিচ্ছে। বেইজিংয়ের দৃষ্টিতে এটি ওই অঞ্চলে তাদের প্রশাসনিক ও কৌশলগত উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা।

এদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় ও দলীয় গণমাধ্যমগুলোও বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরছে। কমিউনিস্ট পার্টির মুখপত্র পিপলস ডেইলি এক সম্পাদকীয়তে জাপান ও ফিলিপাইনকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য ‘ঝুঁকির উৎস’ বলে উল্লেখ করেছে। পত্রিকাটির দাবি, দুই দেশ এমন পদক্ষেপ নিচ্ছে যা পূর্ব এশিয়ায় নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।

গত মাসে জাপান ও ফিলিপাইন ঘোষণা দেয় যে তারা নিজ নিজ একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং মহীসোপানের সামুদ্রিক সীমানা নির্ধারণে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করবে। বেইজিংয়ের আশঙ্কা, এই সম্ভাব্য সীমানা নির্ধারণ তাইওয়ানের সংলগ্ন জলসীমাকেও প্রভাবিত করতে পারে।

চীন বরাবরই তাইওয়ানকে নিজের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে। ফলে তাইওয়ান সংলগ্ন কোনো সামুদ্রিক সীমারেখা নির্ধারণে তৃতীয় পক্ষের অংশগ্রহণকে তারা নিজেদের সার্বভৌমত্বের প্রতি চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করছে।

রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া এই টহল অভিযানকে ‘প্রয়োজনীয় আইন প্রয়োগকারী পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। সংস্থাটির মতে, দেশের সামুদ্রিক অধিকার ও স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ জলসীমায় গভীর সমুদ্র টহল এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ সক্ষমতা বাড়ানোই এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, জাপান-ফিলিপাইন সামুদ্রিক সহযোগিতা, তাইওয়ান ইস্যু এবং দক্ষিণ ও পূর্ব চীন সাগরে ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে এই নৌমোতায়েনকে শুধুমাত্র একটি নিয়মিত টহল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং এটি পূর্ব এশিয়ার ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার নতুন একটি বার্তা বহন করছে।

তাদের মতে, বেইজিং এই পদক্ষেপের মাধ্যমে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে চাইছে যে, তাইওয়ান সংলগ্ন জলসীমা এবং আঞ্চলিক সামুদ্রিক ইস্যুতে চীনের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তারা নিজেদের দাবি প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় থাকবে।

KOLOROB Note

এই প্রতিবেদনে কোনো তথ্যগত ভুল চোখে পড়লে আমাদের Contact পৃষ্ঠার মাধ্যমে জানান। যাচাই শেষে সংশোধনী প্রকাশ করা হবে।

সম্পর্কিত খবর আরও →
অতিরিক্ত যাত্রী, বেপরোয়া গতি—পাকিস্তানে খাদে বাস, মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল অন্তত ৪০ জনের
আন্তর্জাতিক

অতিরিক্ত যাত্রী, বেপরোয়া গতি—পাকিস্তানে খাদে বাস, মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল অন্তত ৪০ জনের

ছবি  এ আই দ্বারা নির্মিত
আন্তর্জাতিক

কিয়েভে রাশিয়ার ভয়াবহ ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত অন্তত ২৭; বিদেশ সফর মাঝপথে ছেড়ে দেশে ফিরলেন জেলেনস্কি

google
আন্তর্জাতিক

১৪০ টন ধ্বংসস্তূপের নিচে আট দিন! মৃত্যুকে হারিয়ে জীবনের জয়, ভেনেজুয়েলায় অলৌকিক উদ্ধার ৪৩ বছরের হারনানের

দিল্লিতে ভারত-জাপান শীর্ষ বৈঠক, ‘ভাই-বোনের মতো সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে’— প্রধানমন্ত্রী মোদিকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি
আন্তর্জাতিক

দিল্লিতে ভারত-জাপান শীর্ষ বৈঠক, ‘ভাই-বোনের মতো সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে’— প্রধানমন্ত্রী মোদিকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি