ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে দেশে ফেরার ঘোষণা করলেন দেশের বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো। আত্মগোপন ও নির্বাসনের দীর্ঘ সময় পেরিয়ে তিনি জানিয়েছেন, এখনই নিজের দেশের মানুষের পাশে থাকার সময়।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মাচাদো বলেন,
"আমার জনগণের পাশে থাকা আমার কর্তব্য। একে অপরকে আলিঙ্গন করতে, একসঙ্গে শোক ভাগ করে নিতে এবং এই সংকট মোকাবিলায় আমাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন।"
তিনি আরও জানান, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো দুর্গত মানুষের জীবন রক্ষা করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো। খুব শিগগিরই তিনি ভেনেজুয়েলায় ফিরে যাবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
নির্বাসন শেষে ফেরার সিদ্ধান্ত
২০২৪ সালের বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর রাজনৈতিক চাপে আত্মগোপনে চলে যান মারিয়া কোরিনা মাচাদো। পরে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তিনি দেশ ছাড়েন। দীর্ঘ নির্বাসনের পর ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের এই মুহূর্তে দেশে ফেরার সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক ও মানবিক— দুই দিক থেকেই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
মৃতের সংখ্যা ১,৪৫০ ছাড়াল
অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, রোববার পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৪৫০ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। তিনি এই ভূমিকম্পকে ভেনেজুয়েলার ইতিহাসের "সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ" বলে উল্লেখ করেছেন।
ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার ৩৩ জন
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহান্তে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ৩৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছে ১১ বছর বয়সী দুই শিশু, যাদের পৃথকভাবে ধসে পড়া ভবন থেকে জীবিত বের করে আনা সম্ভব হয়েছে।
তবে এখনও হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ থাকায় উদ্ধারকারী দল সময়ের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
উদ্ধার অভিযানে সময় ফুরিয়ে আসছে
মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলোর মতে, বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর প্রথম ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা জীবিত মানুষ উদ্ধারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। সেই সময়সীমা প্রায় শেষের দিকে পৌঁছে যাওয়ায় জীবিতদের খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা ক্রমশ কমে আসছে।
এদিকে নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যরা টানা পঞ্চম রাত ধরে প্রিয়জনদের সন্ধানের আশায় উদ্ধারকাজের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন।
ভেনেজুয়াজুড়ে এখন চলছে উদ্ধার, চিকিৎসা ও ত্রাণ কার্যক্রম। আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থাগুলিও ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় এগিয়ে আসছে।
ছবি-- সোশ্যাল মিডিয়া